জ্ঞান · শৃঙ্খলা · স্বেচ্ছাসেবক  •  Knowledge, Discipline, The Volunteers

Category: Uncategorized

  • বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC) দিবস: ঐতিহ্যের স্বীকৃতি ও আগামীর পথচলা

    বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC) দিবস: ঐতিহ্যের স্বীকৃতি ও আগামীর পথচলা

    জানুন বিএনসিসি দিবস বা BNCC Day-এর বিস্তারিত ইতিহাস। সরকার কেন ২৩ মার্চকে ‘গ’ ক্যাটাগরির ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল? ইতিহাস, তথ্যসূত্র এবং ক্যাডেটদের করণীয় নিয়ে bncc.work-এর বিশেষ প্রবন্ধ।_________________________________________________________________________________

    ভূমিকা

    বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের বীরত্ব, সেবা ও শৃঙ্খলার এক অনন্য নাম বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC)। দীর্ঘ এক শতাব্দীর গৌরবোজ্জ্বল পথচলার পর, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সরকার এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অর্থাৎ ‘২৩শে মার্চ’-কে সরকারি ছুটির তালিকার ‘গ’ ক্যাটাগরিতে (ঐচ্ছিক ছুটি) অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশ গঠনে ক্যাডেটদের নিঃস্বার্থ অবদানের এক ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে আমরা জানার চেষ্টা করব বিএনসিসি দিবসের ইতিহাস, এর গুরুত্ব এবং এই বিশেষ দিনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে।

    বিএনসিসি দিবস: পরিচয় ও তাৎপর্য

    প্রতি বছর ২৩শে মার্চ ‘বিএনসিসি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এটি মূলত এই বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের দিন। বিএনসিসি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী। এর মূলমন্ত্র হলো—“জ্ঞান ও শৃঙ্খলা”। এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্যাডেটদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা, সামরিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং গত এক বছরে সংগঠনের অর্জনগুলোকে মূল্যায়ন করা।

    ইতিহাসের পাতা থেকে: কিভাবে শুরু হলো এই পথচলা?

    বিএনসিসি-র ইতিহাস বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন এবং কন্টকাকীর্ণ। এর বিবর্তনকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

    ১. ব্রিটিশ আমল ও ইউওটিসি (UOTC): ১৯২৩ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘ইন্ডিয়ান টেরিটোরিয়াল ফোর্সেস অ্যাক্ট’ পাসের মাধ্যমে ভারতবর্ষের ছাত্রদের সামরিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউনিভার্সিটি ট্রেনিং কোর’ (UTC) এর যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ অফিসার ক্যাপ্টেন ই. গ্রুম (Captain E. Groom) মাত্র ১০৪ জন ছাত্র ও শিক্ষক নিয়ে প্রথম প্রশিক্ষণের সূচনা করেন। ১৯২৮ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কোর’ (UOTC) হিসেবে পরিচিতি পায়।

    ২. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ক্যাডেটদের ত্যাগ: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ইউওটিসি-র ক্যাডেটদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ক্যাডেটরা তাদের সামরিক প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরেই অনেক ক্যাডেট সম্মুখ সমরে শহীদ হন। যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে গেরিলা অপারেশন এবং সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষিত করতে ক্যাডেটরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    ৩. আধুনিক বিএনসিসি-র জন্ম (১৯৭৯): দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৯ সালের ২৩শে মার্চ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অবতারণা হয়। তৎকালীন সরকার একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে পূর্ববর্তী তিনটি সংস্থা—University Officers Training Corps (UOTC), Bangladesh Cadet Corps (BCC) এবং Junior Cadet Corps (JCC)-কে একত্রিত করে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর’ (BNCC) গঠন করেন। এই ২৩শে মার্চ তারিখটিকেই ভিত্তি ধরে প্রতি বছর বিএনসিসি দিবস পালিত হয়ে আসছে।

    সরকারি তালিকায় ‘গ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তি

    ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২৩শে মার্চকে সরকারি ছুটির তালিকার ‘গ’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

    এর বাস্তব প্রভাব: ‘গ’ ক্যাটাগরির ছুটি হলো ঐচ্ছিক ছুটি। এর ফলে সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিএনসিসি-র সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, পিইউও (PUO), টিইউও (TUO) এবং ক্যাডেটরা এই দিনে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ ছুটি নিতে পারবেন। এটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিএনসিসি-র অস্তিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ক্যাডেটদের সামাজিক মর্যাদাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    দিবসটি পালনের ধরন: রেজিমেন্ট ও হেডকোয়ার্টার এর পরিকল্পনা

    প্রতি বছর বিএনসিসি সদর দপ্তর (উত্তরা, ঢাকা) থেকে এই দিবসের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সাধারণত পরিকল্পনাগুলো নিম্নরূপ হয়:

    • রেজিমেন্টাল প্যারেড: পাঁচটি আর্মি রেজিমেন্ট (রমনা, ময়নামতি, কর্ণফুলী, মহাস্থান ও সুন্দরবন) এবং বিমান ও নৌ শাখার উইংগুলো তাদের নিজ নিজ এলাকায় কুচকাওয়াজের আয়োজন করে।
    • স্মৃতিচারণ ও পদক প্রদান: বছরের সেরা পারফর্মার ক্যাডেটদের ‘বেস্ট ক্যাডেট’ মেডেল এবং বিশেষ কৃতিত্বের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।
    • প্রকাশনা: সদর দপ্তর থেকে বিশেষ স্মরণিকা বা ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়, যেখানে ক্যাডেটদের সৃজনশীল লেখা ও কার্যক্রমের খতিয়ান থাকে।
    • উন্নত মানের আহার: ক্যাম্প বা কন্টিনজেন্টগুলোতে ক্যাডেটদের জন্য বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্যাডেটদের করণীয়

    বাংলাদেশে বর্তমানে হাজারো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনসিসি-র কন্টিনজেন্ট রয়েছে। এই বিশেষ দিনে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাডেটদের কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে:

    ১. বর্ণাঢ্য র‍্যালি: কন্টিনজেন্টের সকল সদস্য মিলে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় ক্যাম্পাসে র‍্যালি করা, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করবে। ২. তথ্য প্রদর্শনী: সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বিএনসিসি-র ইতিহাস, অস্ত্র শিক্ষা এবং ল্যান্ড নেভিগেশনের ওপর ছোট প্রদর্শনী বা প্রেজেন্টেশন আয়োজন করা। ৩. সামাজিক সেবা: স্থানীয় এতিমখানায় খাবার বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি বা ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ অভিযান পরিচালনা করা। ৪. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: দেশাত্মবোধক গান, নাটিকা বা যুদ্ধের ডেমোনেস্ট্রেশন (Mock War) আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটির মহিমা তুলে ধরা।

    বাস্তব উদাহরণ ও গুরুত্ব

    আমরা প্রায়ই দেখি জাতীয় দিবসের প্যারেডে ক্যাডেটদের নিখুঁত কুচকাওয়াজ। আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা বড় কোনো জনসমাবেশে পুলিশকে সহায়তা করতে ক্যাডেটদের নিঃস্বার্থ উপস্থিতি। এই ‘ভলান্টিয়ারিজম’ বা স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা তৈরি হয় এই বাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলা থেকে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে এখন থেকে দেশের হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিএনসিসি দিবস পালন আরও আড়ম্বরপূর্ণ হবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশৃঙ্খল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

    উপসংহার

    বিএনসিসি দিবস কেবল আনন্দ-উৎসবের দিন নয়; এটি আত্মোপলব্ধি এবং নতুন করে শপথ নেওয়ার দিন। যে স্বপ্ন নিয়ে ১৯২৭ সালে এর বীজ বপন করা হয়েছিল এবং যে ত্যাগ স্বীকার করে ১৯৭১ সালে ক্যাডেটরা রক্ত দিয়েছিলেন, সেই আদর্শকে সমুন্নত রাখাই এই দিবসের সার্থকতা। সরকারের এই নতুন স্বীকৃতি ক্যাডেটদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করা যায়, আগামী দিনে বিএনসিসি বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে।


    তথ্যসূত্র:

    ১. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর আইন, ২০১৬ (জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত আইন)।

    ২. বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (BNCC) বিষয়ক নিবন্ধ।

    ৩. সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত (জানুয়ারি, ২০২৬): সরকারি ছুটির তালিকা সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

    ৪. বিএনসিসি সদর দপ্তর আর্কাইভ: ঐতিহাসিক নথি ও বার্ষিক প্রতিবেদন (১৯৭৯-২০২৫)।

    ৫. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক দলিলপত্র: ইউওটিসি ক্যাডেটদের অবদান সংক্রান্ত বিশেষ খণ্ড।


    ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত ও সম্পাদিত: 
    ক্যাপ্টেন মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, বিএনসিসি অফিসার। 
    Link: https://bncc.work 
    (এটি bncc.work এর একটি বিশেষ আর্কাইভাল পোস্ট। অনুমতি ব্যতীত এর কোনো অংশ পুন:প্রকাশ নিষিদ্ধ।)
  • বিএনসিসির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম জোরদারকরণ: নতুন নির্দেশনা ও করণীয়

    বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি সেবার মনোভাব গড়ে তোলার এক অনবদ্য প্ল্যাটফর্ম। এই কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ট্রেনিং কনফারেন্সে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ সকল স্তরের বিএনসিসি সদস্যদের, বিশেষ করে প্রফেসর আন্ডার অফিসার (PUO) এবং টিচার আন্ডার অফিসার (TUO)-দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসুন, এই নির্দেশনাগুলো সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

    ১. শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শন
    যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য প্রোটোকল বা আনুষ্ঠানিকতার নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যে কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

    • ফুলের তোড়া উপস্থাপন বন্ধ: এখন থেকে কোনো পরিদর্শক অফিসারকে স্বাগত জানাতে ফুলের তোড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই প্রথাটি শুধুমাত্র বিএনসিসির সর্বোচ্চ অভিভাবক, মহাপরিচালক (DG) মহোদয়ের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে সেক্ষেত্রেও রেজিমেন্ট কমান্ডারের কাছ থেকে (ব্যাটালিয়ন অ্যাডজুট্যান্টের মাধ্যমে) মৌখিক অনুমতি নিতে হবে। এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে পেশাদারিত্ব বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
    • সঠিক ইউনিফর্ম পরিধান: বিএনসিসির কার্যক্রমে নির্ধারিত ইউনিফর্ম সঠিকভাবে পরা বাধ্যতামূলক। এটি কেবল একটি পোশাক নয়, বরং শৃঙ্খলা, পরিচয় ও গর্বের প্রতীক। ইউনিফর্ম পরার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে তা প্রত্যাহার করা হবে। প্রয়োজনে সিনিয়রদের সাহায্য বা সরাসরি রেজিমেন্টে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
    • রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা: বিএনসিসি একটি জাতীয় ও অরাজনৈতিক সংগঠন। কোনো ক্যাডেটকে রাজনৈতিক বা বিতর্কিত কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের নিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

    ২. প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা
    প্রতিটি প্লাটুন বা কোম্পানির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরঞ্জাম ও তার সঠিক হিসাব রাখা জরুরি।

    • সম্পূর্ণ স্টক তালিকা তৈরি: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের (PUO ও TUO-এর তত্ত্বাবধানে) স্টোরে থাকা সকল সরঞ্জামের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকায় রেজিমেন্ট থেকে প্রাপ্ত এবং বিএনসিসি ফান্ড থেকে কেনা উভয় প্রকার মালামাল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই কাজটি সামরিক সদস্যদের সহায়তায় সম্পন্ন করতে হবে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
    • প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়: প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী, যেমন— কাঠের রাইফেল, গার্ড অব অনার ও পাইলট ডিউটির সরঞ্জাম, এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ উপকরণ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কিছু কেনার প্রয়োজন হলে, তার আগে একটি প্রস্তাবনা ও সম্ভাব্য খরচের হিসাব জমা দিতে হবে। এতে পরিকল্পনা মাফিক ব্যয় নিশ্চিত করা সহজ হবে।

    ৩. কার্যকর যোগাযোগ ও তদারকি
    ব্যাটালিয়ন ও প্লাটুন পর্যায়ে কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ অপরিহার্য।

    • মাসিক যোগাযোগ স্থাপন: প্রত্যেক PUO/TUO-কে প্রতি মাসে অন্তত একবার ব্যাটালিয়ন অ্যাডজুট্যান্টের সাথে ভয়েস কল বা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে। এই সময় বিগত মাসের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ এবং আগামী মাসের পরিকল্পনা জানাতে হবে। কোনো বিশেষ কার্যক্রম না থাকলেও সৌজন্যমূলক কল (Courtesy Call) করার কথা বলা হয়েছে, যা आपसी সম্পর্ক দৃঢ় করবে।
    • কার্যক্রম তদারকি: BNCCO-গণ নিজ নিজ কোম্পানি বা ব্যাটালিয়নের PUO/TUO-দের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন। এর মাধ্যমে প্লাটুনের ক্যাডেটদের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে এবং নির্দেশনাসমূহ সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা যাবে।

    ৪. ক্যাডেটদের সাথে সংযোগ ও উন্নয়ন
    ক্যাডেটরাই বিএনসিসির প্রাণ। তাদের উন্নয়ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কিছু পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

    • মাসিক মতবিনিময় সভা: প্রতিটি প্লাটুনকে মাসে অন্তত একবার ক্যাডেটদের সাথে একটি কেন্দ্রীয় মতবিনিময় সভা আয়োজন করতে হবে। এতে ক্যাডেটরা তাদের মতামত ও সমস্যার কথা জানাতে পারবে। প্রয়োজনে এই সভায় প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে, যা ক্যাডেটদের উৎসাহিত করবে।
    • ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ: ক্যাডেটদের নিয়মিত প্রশিক্ষণে ও ক্লাসে উপস্থিত থাকার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। নতুন প্রশিক্ষণ বর্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, মাসিক ফায়ারিংসহ নানা আকর্ষণীয় কার্যক্রম যুক্ত হচ্ছে। যারা অনিয়মিত থাকবে, তারা এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
    • ক্যাডেট ব্যবহারের নিয়মাবলী: প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠানে (যেমন: ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) ব্যাটালিয়ন অ্যাডজুট্যান্টকে জানিয়ে ক্যাডেটদের দায়িত্বে নিয়োজিত করা যাবে এবং অনুষ্ঠানের ছবি পাঠাতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের বাইরের কোনো প্রোগ্রামে ক্যাডেটদের ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে ফোনে অনুমতি নিয়ে পরে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। এই দায়িত্বটি জ্যেষ্ঠ PUO/TUO পালন করবেন।

    উপসংহার: কমান্ড থেকে প্রেরিত এই নির্দেশনাসমূহ বিএনসিসির কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ করার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিটি প্লাটুনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে। সকল PUO, TUO এবং ক্যাডেটদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালিত হলে বিএনসিসি তার লক্ষ্য অর্জনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

  • বিএসসিসি ক্যাডেট পদোন্নতি পরীক্ষার দরকারী প্রশ্ন ও উত্তর

    ক) সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge)

    ১। বি এন সি সি কোন মন্ত্রনালয়ের অধীনে?
    উত্তর: প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়।

    ২। বি এন সি সি’র মূলমন্ত্র কয়টি?

    উত্তর: ৩ টি।

    ৩। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর সেনা শাখায় সর্বমোট কতটি ব্যাটালিয়ন আছে?

    উত্তর: ২৫ টি।

    ৪। সশস্ত্র বাহিনী দিবস কবে?

    উত্তর: ২১ নভেম্বর।

    ৫। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?

    উত্তর: ১ নং সেক্টরের অধীনে।

    ৬। দুর্যোগ কত প্রকার ও কি কি?

    উত্তর: দুর্যোগ ২ প্রকার। যথা:

    (ক) মানবসৃষ্ট

    (খ) প্রাকৃতিক

    ৭। BMA এর পূর্ণরূপ কি?

    উত্তর: Bangladesh Military Academy

    ৮। GPA- এর পূর্ণরূপ লিখ।

    উত্তর: Grade Point Average

    ৯। বর্তমান মহাপরিচালক মহোদয়ের নাম কি?

    উত্তর: বিএ-৪৬৫০ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদ, বিজিবিএমএস, এনডিসি, পিএসসি। (বি:দ্র: এই তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।)

    ১০। কর্ণফুলী রেজিমেন্ট এর রেজিমেন্ট কমান্ডার মহোদয়ের নাম কী?

    উত্তর: লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, এএসসি। (বি:দ্র: : এই তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।)

    ১১। ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট এর নাম কি?

    উত্তর: মেজর মোঃ রফিকুল হাসান রাফি, পদাতিক। (বি:দ্র: : এই তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।)

    ১২। তুমি কত ব্যাটালিয়নের কোন কোম্পানীর ক্যাডেট?

    উত্তর: (এখানে ক্যাডেট তার নিজ ব্যাটালিয়ন ও কোম্পানীর নাম উল্লেখ করবে)।

    খ) ফিল্ডক্র্যাফট ও রণকৌশল (Fieldcraft & Tactics)

    ১। সঠিক দূরত্ব নির্ণয়ের পদ্ধতি কয়টি ও কি কি?

    উত্তর: সঠিক দূরত্ব নির্ণয়ের পদ্ধতি ৫টি। যথা:

    (ক) একক মাত্রা পদ্ধতি

    (খ) আকৃতি পদ্ধতি

    (গ) দৃষ্টি পরিবর্তন পদ্ধতি

    (ঘ) ফ্রন্ট সাইট টিপ পদ্ধতি

    (ঙ) শব্দের দ্বারা দূরত্ব নির্ণয় পদ্ধতি

    ২। জটিল পদ্ধতিতে লক্ষ্যবস্তু দেখানোর পদ্ধতি কয়টি ও কি কি?

    উত্তর: ৫টি। যথা:

    (ক) সাহায্যকারী চিহ্ন

    (খ) ঘড়ির সাহায্য

    (গ) ডিগ্রীর সাহায্যে (হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে)

    (ঘ) ট্রেসার ফায়ারের সাহায্যে

    (ঙ) পয়েন্টার স্টাফের সাহায্যে

    ৩। ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তার নীতিমালা কয়টি ও কি কি?

    উত্তর: ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তার নীতিমালা ২টি। যথা:

    (ক) আকৃতিকে বিকৃতি করা

    (খ) উজ্জ্বলতাকে ধ্বংস করা

    ৪। চাল কত প্রকার ও কি কি?

    উত্তর: চাল ৪ প্রকার। যথা:

    (ক) গড়ানো চাল

    (খ) চিতা চাল

    (গ) হাঁটা চাল

    (ঘ) বানর চাল

    ৫। দিক নির্ণয়ের উপাদানগুলো কি কি?

    উত্তর:

    (ক) সূর্যের সাহায্যে

    (খ) মসজিদের সাহায্যে

    (গ) মুসলমানদের কবরের সাহায্যে

    (ঘ) কম্পাসের সাহায্যে

    (ঙ) ধ্রুব তারার সাহায্যে

    ৬। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে ডিগ্রী নির্ণয়:

    • তর্জনী আঙ্গুল হতে কনিষ্ঠ আঙ্গুল পর্যন্ত: ৮ ডিগ্রী
    • তর্জনী আঙ্গুল হতে মধ্যমা আঙ্গুল পর্যন্ত: ৩ ডিগ্রী
    • মধ্যমা আঙ্গুল হতে কনিষ্ঠ আঙ্গুল পর্যন্ত: ৫ ডিগ্রী