জ্ঞান · শৃঙ্খলা · স্বেচ্ছাসেবক  •  Knowledge, Discipline, The Volunteers

Tag: BNCC

  • সার্ক ক্যাডেট কোর সিরিজ (পর্ব ১): সার্কভুক্ত দেশগুলোর ক্যাডেট কোর — এক নজরে তুলনামূলক পরিচিতি

    এই লেখাটি bncc.work-এর একটি বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন — “সার্ক ক্যাডেট কোর সিরিজ”-এর প্রথম পর্ব। সার্কভুক্ত (SAARC) দেশগুলোর ছাত্র/ক্যাডেট কোর নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নির্ভুল ও তথ্যসূত্র-নির্ভর আলোচনা করাই এই সিরিজের উদ্দেশ্য, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিএনসিসির অবস্থানকে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরবে।

    ভূমিকা: ক্যাডেট কোর কী এবং কেন

    ক্যাডেট কোর (Cadet Corps) হলো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণের বীজ বপন করার একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি। এর মূল লক্ষ্য কাউকে সরাসরি সৈনিক বানানো নয়, বরং তরুণদের সুশৃঙ্খল, দায়িত্ববান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার একটি “দ্বিতীয় সারি” (second line of defence) তৈরি করা।

    দক্ষিণ এশিয়ায় ক্যাডেট প্রশিক্ষণের ধারণাটির শিকড় প্রোথিত ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলে। ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে স্কুলপর্যায়ে “ড্রিলের মাধ্যমে শৃঙ্খলা” শেখানোর যে চর্চা শুরু হয়েছিল, স্বাধীনতা-উত্তরকালে সার্কভুক্ত প্রায় প্রতিটি দেশ তা নিজেদের জাতীয় প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন রূপে সাজিয়ে নিয়েছে। ফলে আজ এই অঞ্চলে ক্যাডেট কোরের রূপ, আকার ও পরিচালন-কাঠামোতে যেমন মিল আছে, তেমনি উল্লেখযোগ্য পার্থক্যও রয়েছে।

    সার্কভুক্ত আট দেশের ক্যাডেট কোর: এক নজরে

    সার্কের (South Asian Association for Regional Cooperation) সদস্য দেশ আটটি — ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। নিচে প্রতিটি দেশের ক্যাডেট/যুব সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হলো।

    ১. ভারত — National Cadet Corps (NCC)

    ভারতের ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (NCC) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৬ জুলাই এবং এটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ইউনিফর্মধারী যুব সংগঠন হিসেবে বিবেচিত। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেনা, নৌ ও বিমান — এই তিন বাহিনীর উইং নিয়ে গঠিত। এর মূলমন্ত্র “একতা ও শৃঙ্খলা” (Unity and Discipline / एकता और अनुशासन)। আনুমানিক প্রায় ১৭ থেকে ২৩ লক্ষ ক্যাডেট এতে সক্রিয়। ক্যাডেটরা ‘A’, ‘B’ ও ‘C’ সার্টিফিকেট অর্জন করে, যা উচ্চশিক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানে বিশেষ সুবিধা দেয়। সদর দপ্তর নয়াদিল্লিতে এবং এটি একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার মহাপরিচালকের (Director General) নেতৃত্বে পরিচালিত।

    ২. পাকিস্তান — National Cadet Corps (বর্তমানে বিলুপ্ত)

    পাকিস্তানে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০-এর দশকের গোড়ায় (১৯৪৭-৪৮ সালে প্রস্তুতিমূলক কমিটি গঠন এবং ১৯৫০ সালে সরকারি অনুমোদন)। কলেজ ও স্কুল পর্যায়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হতো এবং জাতীয় গার্ডের (National Guard) একটি রিজার্ভ অংশ ছিল। তবে ২০০২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সময়ে এটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং এখনো তা কার্যত অকার্যকর। ২০১৪ সালের পেশোয়ার স্কুল হামলার পর এবং পরবর্তীতে ২০১৫ ও ২০১৯ সালে এটি পুনরুজ্জীবনের নানা প্রস্তাব উঠলেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না।

    ৩. শ্রীলঙ্কা — National Cadet Corps (অঞ্চলের প্রাচীনতম)

    শ্রীলঙ্কার ক্যাডেট কোরের ইতিহাস এই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো — এর সূচনা ১৮৮১ সালে কলম্বোর রয়্যাল কলেজে একটি ক্যাডেট প্লাটুন গঠনের মধ্য দিয়ে। কালক্রমে নাম বদলে হয়েছে Ceylon Cadet Battalion (১৯১৯), Ceylon Cadet Corps (১৯৫০), Sri Lanka Cadet Corps (১৯৭২) এবং সর্বশেষ ১৯৮৮ সাল থেকে National Cadet Corps। এটি শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। এর মূলমন্ত্র “কখনো অপ্রস্তুত থেকো না” (Never be unprepared)। প্রায় ১ লক্ষ নিবন্ধিত ক্যাডেট, ৪,৪৯২টি প্লাটুন ও ৩০টি ব্যাটালিয়নে বিস্তৃত।

    ৪. মালদ্বীপ — Maldives National Cadet Corps (MNCC)

    মালদ্বীপ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সূচনা ১৯৪৫ সালের একটি প্রশিক্ষণ দল থেকে হলেও বর্তমান রূপে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে MNCC নামে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৫ সালে। এটি মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এবং মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (MNDF) এতে সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেয়। এর মূলমন্ত্র “আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা” (To obey and to be loyal)। দেশের প্রায় ৪১টি স্কুলে সক্রিয় এই সংগঠনটিকে মালদ্বীপের বৃহত্তম যুব সংগঠন হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং এটি চারটি আঞ্চলিক রেজিমেন্টে বিভক্ত।

    ৫. নেপাল — National Cadet Corps (NCC)

    নেপালের ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালের ৭ নভেম্বর, রাজা মহেন্দ্রের অনুমোদনক্রমে। এটি নেপাল আর্মি কর্তৃক পরিচালিত একটি সরকারি যুব নেতৃত্ব ও জাতীয় সেবা কর্মসূচি। প্রোগ্রামটি অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে জুনিয়র ও সিনিয়র ডিভিশনে বিভক্ত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮৬,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং বছরে প্রায় ৭,৭০০ ক্যাডেট অংশ নেয়। সম্প্রতি ১৯৭০ সালের পুরোনো আইন প্রতিস্থাপন করে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের জন্য নতুন একটি বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে, যার আওতায় এটি নেপালের সব ৭৭টি জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ৬. ভুটান — আনুষ্ঠানিক ক্যাডেট কোর নেই, তবে জাতীয় সেবা কর্মসূচি চালু

    ভুটানে ভারত-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মতো ধারাবাহিক স্কুল-পর্যায়ের “ক্যাডেট কোর” কাঠামো প্রচলিত নেই — এ তথ্য সততার সাথে উল্লেখ করা প্রয়োজন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভুটান “গেলসুং” (Gyalsung) জাতীয় সেবা কর্মসূচি চালু করেছে, যা ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট বয়সে (মূলত ১৮ বছর) তরুণ-তরুণীদের বাধ্যতামূলক মৌলিক সামরিক ও জীবন-দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা রয়্যাল ভুটান আর্মির সহায়তায় পরিচালিত। কাঠামোগতভাবে এটি স্কুল-ক্যাডেট মডেলের চেয়ে ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্যের দিক থেকে তুলনীয়।

    ৭. আফগানিস্তান — আনুষ্ঠানিক স্কুল ক্যাডেট কোরের অনুপস্থিতি

    আফগানিস্তানে ভারত বা বাংলাদেশের ধাঁচে স্কুল/কলেজভিত্তিক কোনো জাতীয় ক্যাডেট কোর নেই। দেশটিতে সামরিক প্রশিক্ষণ মূলত ন্যাশনাল মিলিটারি একাডেমি অব আফগানিস্তানের মতো উচ্চতর সামরিক প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক থেকেছে, যা তরুণ শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্যাডেট কর্মসূচি নয়। এছাড়া ২০২১ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশটির প্রতিরক্ষা ও যুব-প্রশিক্ষণ কাঠামোর সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য সীমিত। তাই এখানে অনুমাননির্ভর কোনো দাবি না করে বলা যায় — সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোর মতো আনুষ্ঠানিক ছাত্র-ক্যাডেট কোরের অস্তিত্ব আফগানিস্তানে দৃশ্যমান নয়।

    ৮. বাংলাদেশ — Bangladesh National Cadet Corps (BNCC)

    বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় ১৯৭৯ সালের ২৩ মার্চ, পূর্বসূরি কয়েকটি সংগঠনের সমন্বয়ে। এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেনা, নৌ ও বিমান — এই তিন উইং নিয়ে গঠিত একটি ত্রি-বাহিনীভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী রিজার্ভ বাহিনী। এর মূলমন্ত্র “জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও একতা” (Knowledge, Discipline and Unity)। সদর দপ্তর ঢাকার উত্তরায়; সেনা উইং পাঁচটি রেজিমেন্টে (রমনা, কর্ণফুলী, ময়নামতি, মহাস্থান ও সুন্দরবন) বিভক্ত। এই সিরিজের অষ্টম পর্বে বিএনসিসি নিয়ে বিস্তারিত ও তুলনামূলক আলোচনা করা হবে।

    তুলনামূলক সারণি

    দেশসংগঠনপ্রতিষ্ঠানিয়ন্ত্রণবর্তমান অবস্থা
    ভারতNational Cadet Corps (NCC)১৯৪৮প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (তিন বাহিনী)সক্রিয় — বিশ্বের বৃহত্তম (~১৭–২৩ লক্ষ)
    পাকিস্তানNational Cadet Corps~১৯৫০সেনাবাহিনী / ন্যাশনাল গার্ড২০০২ সালে বিলুপ্ত; পুনরুজ্জীবনের আলোচনা
    শ্রীলঙ্কাNational Cadet Corpsমূল ১৮৮১; বর্তমান নাম ১৯৮৮প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সক্রিয় — অঞ্চলের প্রাচীনতম (~১ লক্ষ)
    মালদ্বীপMaldives National Cadet Corps১৯৯৫ (উৎস ১৯৪৫)শিক্ষা মন্ত্রণালয় + MNDFসক্রিয় (~৪১টি স্কুল)
    নেপালNational Cadet Corps১৯৬৫নেপাল আর্মিসক্রিয় — সম্প্রসারণাধীন (বছরে ~৭,৭০০)
    ভুটানGyalsung (জাতীয় সেবা)২০২৪সরকার / রয়্যাল ভুটান আর্মিস্কুল-ক্যাডেট কোর নেই; নতুন জাতীয় সেবা
    আফগানিস্তানআনুষ্ঠানিক ছাত্র-ক্যাডেট কোর নেই
    বাংলাদেশBangladesh National Cadet Corps (BNCC)১৯৭৯প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (তিন বাহিনী)সক্রিয় — ত্রি-বাহিনীভিত্তিক
    সার্কভুক্ত দেশগুলোর ক্যাডেট কোরের তুলনামূলক সারসংক্ষেপ (তথ্যসূত্র নিচে উল্লিখিত)।

    কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

    • নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষে ভিন্নতা: ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে ক্যাডেট কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে; নেপালে সরাসরি সেনাবাহিনী পরিচালনা করে; আবার মালদ্বীপে এটি প্রধানত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
    • ইতিহাসের বিস্তৃতি: শ্রীলঙ্কা (১৮৮১) ও ভারত (১৯৪৮) সবচেয়ে পুরোনো ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ়; বাংলাদেশ (১৯৭৯) তুলনামূলক নবীন হলেও কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী।
    • ধারাবাহিকতা বনাম বিচ্ছিন্নতা: ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল ও মালদ্বীপে ক্যাডেট কোর ধারাবাহিকভাবে সক্রিয়; পাকিস্তানে তা ২০০২ সালে বিলুপ্ত হয়েছে; ভুটান ও আফগানিস্তানে প্রচলিত অর্থে স্কুল-ক্যাডেট কোর নেই।
    • অভিন্ন লক্ষ্য: নাম, আকার ও কাঠামো ভিন্ন হলেও প্রায় সবগুলোর মূল উদ্দেশ্য অভিন্ন — তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও সেবার মানসিকতা গড়ে তোলা।

    আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বিএনসিসি

    এই তুলনামূলক চিত্রে বাংলাদেশের বিএনসিসির অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ভারতের NCC-র মতো বিএনসিসিও ত্রি-বাহিনীভিত্তিক (সেনা, নৌ, বিমান) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সুসংগঠিত। ভৌগোলিক আকার ও জনসংখ্যার অনুপাতে বিএনসিসি এই অঞ্চলের অন্যতম সংগঠিত ও কার্যকর ক্যাডেট বাহিনী। আগামী পর্বগুলোতে আমরা প্রতিটি দেশের ক্যাডেট কোর আলাদাভাবে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব — ইতিহাস, কাঠামো, প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট ও সুযোগ-সুবিধাসহ — এবং প্রতিবারই বিএনসিসির সাথে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য তুলে ধরব।

    পরবর্তী পর্ব (২য়): ভারত — National Cadet Corps (NCC): বিশ্বের বৃহত্তম যুব ক্যাডেট বাহিনীর বিস্তারিত পরিচিতি।

    তথ্যসূত্র


    ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত ও সম্পাদিত: ক্যাপ্টেন মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, বিএনসিসি অফিসার। — https://bncc.work

  • পদোন্নতি পরীক্ষা পরিচালনা

    পদোন্নতি পরীক্ষা পরিচালনা

    ক্রমিক পদোন্নতি পরীক্ষা পরীক্ষা পরিচালনা পর্যদের গঠন মন্তব্য
    ১। ক্যাডেট হতে ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল ক। সভাপতি: নিজস্ব প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার। খ। সদস্যঃ (১) পার্শ্ববর্তী প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (২) নিজস্ব প্লাটুনের দায়িত্ব প্রাপ্ত সামরিক প্রশিক্ষক প্রশ্ন তৈরী করবেন ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট/কোম্পানী কমান্ডার
    ২। ক্যাডেট ল্যান্স কপোরাল হতে ক্যাডেট কর্পোরাল ক। সভাপতি: কোম্পানী সেকেন্ড ইন কমান্ড খ। সদস্যঃ (১) নিজস্ব প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (২) পার্শ্ববর্তী প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (৩) নিজস্ব প্লাটুনের দায়িত্ব প্রাপ্ত সামরিক প্রশিক্ষক প্রশ্ন তৈরী করবেন ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট/কোম্পানী কমান্ডার
    ৩। ক্যাডেট কর্পোরাল হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট ক। সভাপতি: কোম্পানী সেকেন্ড ইন কমান্ড খ। সদস্যঃ (১) কোম্পানী সেকেন্ড ইন কমান্ড (২) প্লাটুন কমান্ডার (৩) পার্শ্ববর্তী প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (৪) ২ সামরিক প্রশিক্ষক প্রশ্ন তৈরী করবেন ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট
    ৪। ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও ক। সভাপতি: ব্যাটালিয়ন কমান্ড খ। সদস্যঃ (১) ব্যাটালিয়ন  সেকেন্ড ইন কমান্ড (২) কোম্পানি কমান্ডারগণ (৩) ব্যাটালিয়ন হেড় কোয়ার্টারের পিইউগণ (৪)৩২ সামরিক প্রশিক্ষক রেজিমেন্ট সদর দপ্তর হতে প্রশ্নপত্র তৈরী করা হবে
  • পদোন্নতি পরীক্ষার সময়সূচী

    ক্রমিক

    পর্যায়

    ক্যাডেট হতে ক্যাডেট ল্যান্স কপোরাল

    ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল হতে ক্যাডেট কর্পোরাল

    ক্যাডেট কর্পোরাল হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট

    ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও

    মন্তব্য

    ১।

    বিশ্ববিদ্যালয়

    এপ্রিল

    জুলাই

    জানুয়ারি

    এপ্রিল/

    অক্টোবর

    বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আলাদা কোম্পানী থাকলে এপ্রিল মাসে ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও পদোন্নতি পরীক্ষা হবে অথবা কলেজ পর্যায়ের সাথে অক্টোবর মাসে এ পরীক্ষা হতে পারে।

    ২।

    কলেজ

    অক্টোবর

    জানুয়ারি

    জুলাই

    অক্টোবর

     

    ৩।

    স্কুল

    মে

    আগষ্ট

    ফেব্রুয়ারি

    মে

     
  • ক্যাডেট পদোন্নতি, সিনিয়র ডিভিশন

    ক। ক্যাডেট হতে ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নূন্যতম ছয়মাস প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) গ্রেড ২ পদোন্নতি পরীক্ষায় কৃতকার্য।

    (গ) জুনিয়র ডিভিশনের ক্যাডেটদেরকে সরাসরি সিনিয়র ডিভিশনে বিবেচনা করা যেতে পারে।

    (ঘ) একটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    খ। ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল হতে ক্যাডেট কর্পোরাল

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নূন্যতম এক বছর প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরালের মধ্য হতে ক্যাডেট কর্পোরাল হবে।

    (গ) একটি ক্যাপসুল/বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবির শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ/স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহণ।

    (ঘ) একটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন। 

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    গ। ক্যাডেট কর্পোরাল হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট

    (১) যোগ্যতা

    (ক) ক্যাডেট কর্পোরালের মধ্য হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট হবে।

    (খ) নূন্যতম এক বছর প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (গ) গ্রেড- ১ পদোন্নতি পরীক্ষায় কৃতকার্য।

    (ঘ) একটি ক্যাপসুল/বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবির/শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ/স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহণ।

    (ঙ) দুইটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    ঘ। ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নূন্যতম দুই বছর প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) ক্যাডেট সার্জেন্টের মধ্য হতে সিইউও হবে।

    (গ) রেজিমেন্ট কমান্ডার কর্তৃক পরীক্ষা গ্রহণ।

    (ঘ) একটি বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ গ্রহণ।

    (ঙ) একটি শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ/স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহণ।

    (চ) তিনটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) রেজিমেন্ট কমান্ডার ওসি শাখা চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    ঙ। বিবিধ

    (১) জুনিয়র ডিভিশনের যে কোন পদবী সিনিয়র ডিভিশন হতে কণিষ্ঠ হবে।

    (২) জুনিয়ন ডিভিশন প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে যদি কোন ক্যাডেট সিনিয়র ডিভিশনে যোগদান করে তাহলে তাকে সাধার ক্যাডেট হিসাবেই পরিগনিত করা হবে। কোন জেষ্ঠ্যেতা প্রদান করা হবে না।

    (৩) নতুন প্লাটুন প্রতিষ্ঠার পর ব্যাটালিয়ন/ফ্লোটিলা/স্কোয়াড্রন এবং রেজিমেন্ট কমান্ডার কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত র‍্যাংক প্রদান করতে পারেন।

     

  • ক্যাডেট পদোন্নতি, জুনিয়র ডিভিশন

    ক) ক্যাডেট হতে ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নুন্যতম ছয়মাস প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) ষ্ট্যান্ডার্ড ২ পদোন্নতি পরীক্ষায় কৃতকার্য।

    (গ) একটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    খ) ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল হতে ক্যাডেট কর্পোরাল

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নূন্যতম নয় মাস প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরালের মধ্য হতে ক্যাডেট কর্পোরাল হবে।

    (গ) একটি ক্যাপসুল/বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ গ্রহণ।

    (ঘ) একটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    গ) ক্যাডেট কর্পোরাল হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট

    (১) যোগ্যতা

    (ক) ক্যাডেট কর্পোরালের মধ্য হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট হবে।

    (খ) নূন্যতম এক বছর প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (গ) ষ্টান্ডার্ড ১ পদোন্নতি পরীক্ষায় কৃতকার্য।

    (ঘ) একটি ক্যাপসুল/বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ গ্রহণ।

    (ঙ) দুটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    ঘ) ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নূন্যতম এক বছর ছয় মাস প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) ক্যাডেট সার্জেন্টের মধ্য হতে সিইউও হবে।

    (গ) রেজিমেন্ট কমান্ডার কর্তৃক পরীক্ষা গ্রহণ।

    (ঘ) একটি বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ গ্রহণ।

    (ঙ) তিনটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) রেজিমেন্ট কমান্ডার ওসি শাখা চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    ঙ। বিবিধ

    (১) জুনিয়র ডিভিশনের যে কোন পদবী সিনিয়র ডিভিশন হতে কণিষ্ঠ হবে।

    (২) জুনিয়ন ডিভিশন প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে যদি কোন ক্যাডেট সিনিয়র ডিভিশনে যোগদান করে তাহলে তাকে সাধারন ক্যাডেট হিসাবেই পরিগনিত করা হবে। কোন জেষ্ঠ্যেতা প্রদান করা হবে না।

    (৩) নতুন প্লাটুন প্রতিষ্ঠার পর ব্যাটালিয়ন/ফ্লোটিলা/স্কোয়াড্রন এবং রেজিমেন্ট কমান্ডার কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত র‍্যাংক প্রদান করতে পারেন।

  • বিএনসিসির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম জোরদারকরণ: নতুন নির্দেশনা ও করণীয়

    বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি সেবার মনোভাব গড়ে তোলার এক অনবদ্য প্ল্যাটফর্ম। এই কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ট্রেনিং কনফারেন্সে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ সকল স্তরের বিএনসিসি সদস্যদের, বিশেষ করে প্রফেসর আন্ডার অফিসার (PUO) এবং টিচার আন্ডার অফিসার (TUO)-দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসুন, এই নির্দেশনাগুলো সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

    ১. শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শন
    যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য প্রোটোকল বা আনুষ্ঠানিকতার নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যে কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

    • ফুলের তোড়া উপস্থাপন বন্ধ: এখন থেকে কোনো পরিদর্শক অফিসারকে স্বাগত জানাতে ফুলের তোড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই প্রথাটি শুধুমাত্র বিএনসিসির সর্বোচ্চ অভিভাবক, মহাপরিচালক (DG) মহোদয়ের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে সেক্ষেত্রেও রেজিমেন্ট কমান্ডারের কাছ থেকে (ব্যাটালিয়ন অ্যাডজুট্যান্টের মাধ্যমে) মৌখিক অনুমতি নিতে হবে। এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে পেশাদারিত্ব বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
    • সঠিক ইউনিফর্ম পরিধান: বিএনসিসির কার্যক্রমে নির্ধারিত ইউনিফর্ম সঠিকভাবে পরা বাধ্যতামূলক। এটি কেবল একটি পোশাক নয়, বরং শৃঙ্খলা, পরিচয় ও গর্বের প্রতীক। ইউনিফর্ম পরার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে তা প্রত্যাহার করা হবে। প্রয়োজনে সিনিয়রদের সাহায্য বা সরাসরি রেজিমেন্টে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
    • রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা: বিএনসিসি একটি জাতীয় ও অরাজনৈতিক সংগঠন। কোনো ক্যাডেটকে রাজনৈতিক বা বিতর্কিত কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের নিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

    ২. প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা
    প্রতিটি প্লাটুন বা কোম্পানির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরঞ্জাম ও তার সঠিক হিসাব রাখা জরুরি।

    • সম্পূর্ণ স্টক তালিকা তৈরি: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের (PUO ও TUO-এর তত্ত্বাবধানে) স্টোরে থাকা সকল সরঞ্জামের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকায় রেজিমেন্ট থেকে প্রাপ্ত এবং বিএনসিসি ফান্ড থেকে কেনা উভয় প্রকার মালামাল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই কাজটি সামরিক সদস্যদের সহায়তায় সম্পন্ন করতে হবে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
    • প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়: প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী, যেমন— কাঠের রাইফেল, গার্ড অব অনার ও পাইলট ডিউটির সরঞ্জাম, এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ উপকরণ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কিছু কেনার প্রয়োজন হলে, তার আগে একটি প্রস্তাবনা ও সম্ভাব্য খরচের হিসাব জমা দিতে হবে। এতে পরিকল্পনা মাফিক ব্যয় নিশ্চিত করা সহজ হবে।

    ৩. কার্যকর যোগাযোগ ও তদারকি
    ব্যাটালিয়ন ও প্লাটুন পর্যায়ে কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ অপরিহার্য।

    • মাসিক যোগাযোগ স্থাপন: প্রত্যেক PUO/TUO-কে প্রতি মাসে অন্তত একবার ব্যাটালিয়ন অ্যাডজুট্যান্টের সাথে ভয়েস কল বা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে। এই সময় বিগত মাসের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ এবং আগামী মাসের পরিকল্পনা জানাতে হবে। কোনো বিশেষ কার্যক্রম না থাকলেও সৌজন্যমূলক কল (Courtesy Call) করার কথা বলা হয়েছে, যা आपसी সম্পর্ক দৃঢ় করবে।
    • কার্যক্রম তদারকি: BNCCO-গণ নিজ নিজ কোম্পানি বা ব্যাটালিয়নের PUO/TUO-দের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন। এর মাধ্যমে প্লাটুনের ক্যাডেটদের উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে এবং নির্দেশনাসমূহ সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা যাবে।

    ৪. ক্যাডেটদের সাথে সংযোগ ও উন্নয়ন
    ক্যাডেটরাই বিএনসিসির প্রাণ। তাদের উন্নয়ন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কিছু পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

    • মাসিক মতবিনিময় সভা: প্রতিটি প্লাটুনকে মাসে অন্তত একবার ক্যাডেটদের সাথে একটি কেন্দ্রীয় মতবিনিময় সভা আয়োজন করতে হবে। এতে ক্যাডেটরা তাদের মতামত ও সমস্যার কথা জানাতে পারবে। প্রয়োজনে এই সভায় প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেও আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে, যা ক্যাডেটদের উৎসাহিত করবে।
    • ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ: ক্যাডেটদের নিয়মিত প্রশিক্ষণে ও ক্লাসে উপস্থিত থাকার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। নতুন প্রশিক্ষণ বর্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, মাসিক ফায়ারিংসহ নানা আকর্ষণীয় কার্যক্রম যুক্ত হচ্ছে। যারা অনিয়মিত থাকবে, তারা এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
    • ক্যাডেট ব্যবহারের নিয়মাবলী: প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠানে (যেমন: ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) ব্যাটালিয়ন অ্যাডজুট্যান্টকে জানিয়ে ক্যাডেটদের দায়িত্বে নিয়োজিত করা যাবে এবং অনুষ্ঠানের ছবি পাঠাতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের বাইরের কোনো প্রোগ্রামে ক্যাডেটদের ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে ফোনে অনুমতি নিয়ে পরে লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে। এই দায়িত্বটি জ্যেষ্ঠ PUO/TUO পালন করবেন।

    উপসংহার: কমান্ড থেকে প্রেরিত এই নির্দেশনাসমূহ বিএনসিসির কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ করার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিটি প্লাটুনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে। সকল PUO, TUO এবং ক্যাডেটদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালিত হলে বিএনসিসি তার লক্ষ্য অর্জনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।