এই লেখাটি bncc.work-এর একটি বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন — “সার্ক ক্যাডেট কোর সিরিজ”-এর প্রথম পর্ব। সার্কভুক্ত (SAARC) দেশগুলোর ছাত্র/ক্যাডেট কোর নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নির্ভুল ও তথ্যসূত্র-নির্ভর আলোচনা করাই এই সিরিজের উদ্দেশ্য, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিএনসিসির অবস্থানকে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরবে।
ভূমিকা: ক্যাডেট কোর কী এবং কেন
ক্যাডেট কোর (Cadet Corps) হলো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণের বীজ বপন করার একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি। এর মূল লক্ষ্য কাউকে সরাসরি সৈনিক বানানো নয়, বরং তরুণদের সুশৃঙ্খল, দায়িত্ববান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার একটি “দ্বিতীয় সারি” (second line of defence) তৈরি করা।
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্যাডেট প্রশিক্ষণের ধারণাটির শিকড় প্রোথিত ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলে। ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে স্কুলপর্যায়ে “ড্রিলের মাধ্যমে শৃঙ্খলা” শেখানোর যে চর্চা শুরু হয়েছিল, স্বাধীনতা-উত্তরকালে সার্কভুক্ত প্রায় প্রতিটি দেশ তা নিজেদের জাতীয় প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন রূপে সাজিয়ে নিয়েছে। ফলে আজ এই অঞ্চলে ক্যাডেট কোরের রূপ, আকার ও পরিচালন-কাঠামোতে যেমন মিল আছে, তেমনি উল্লেখযোগ্য পার্থক্যও রয়েছে।
সার্কভুক্ত আট দেশের ক্যাডেট কোর: এক নজরে
সার্কের (South Asian Association for Regional Cooperation) সদস্য দেশ আটটি — ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। নিচে প্রতিটি দেশের ক্যাডেট/যুব সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হলো।
১. ভারত — National Cadet Corps (NCC)
ভারতের ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (NCC) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৬ জুলাই এবং এটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ইউনিফর্মধারী যুব সংগঠন হিসেবে বিবেচিত। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেনা, নৌ ও বিমান — এই তিন বাহিনীর উইং নিয়ে গঠিত। এর মূলমন্ত্র “একতা ও শৃঙ্খলা” (Unity and Discipline / एकता और अनुशासन)। আনুমানিক প্রায় ১৭ থেকে ২৩ লক্ষ ক্যাডেট এতে সক্রিয়। ক্যাডেটরা ‘A’, ‘B’ ও ‘C’ সার্টিফিকেট অর্জন করে, যা উচ্চশিক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানে বিশেষ সুবিধা দেয়। সদর দপ্তর নয়াদিল্লিতে এবং এটি একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার মহাপরিচালকের (Director General) নেতৃত্বে পরিচালিত।
২. পাকিস্তান — National Cadet Corps (বর্তমানে বিলুপ্ত)
পাকিস্তানে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০-এর দশকের গোড়ায় (১৯৪৭-৪৮ সালে প্রস্তুতিমূলক কমিটি গঠন এবং ১৯৫০ সালে সরকারি অনুমোদন)। কলেজ ও স্কুল পর্যায়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হতো এবং জাতীয় গার্ডের (National Guard) একটি রিজার্ভ অংশ ছিল। তবে ২০০২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সময়ে এটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং এখনো তা কার্যত অকার্যকর। ২০১৪ সালের পেশোয়ার স্কুল হামলার পর এবং পরবর্তীতে ২০১৫ ও ২০১৯ সালে এটি পুনরুজ্জীবনের নানা প্রস্তাব উঠলেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না।
৩. শ্রীলঙ্কা — National Cadet Corps (অঞ্চলের প্রাচীনতম)
শ্রীলঙ্কার ক্যাডেট কোরের ইতিহাস এই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো — এর সূচনা ১৮৮১ সালে কলম্বোর রয়্যাল কলেজে একটি ক্যাডেট প্লাটুন গঠনের মধ্য দিয়ে। কালক্রমে নাম বদলে হয়েছে Ceylon Cadet Battalion (১৯১৯), Ceylon Cadet Corps (১৯৫০), Sri Lanka Cadet Corps (১৯৭২) এবং সর্বশেষ ১৯৮৮ সাল থেকে National Cadet Corps। এটি শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। এর মূলমন্ত্র “কখনো অপ্রস্তুত থেকো না” (Never be unprepared)। প্রায় ১ লক্ষ নিবন্ধিত ক্যাডেট, ৪,৪৯২টি প্লাটুন ও ৩০টি ব্যাটালিয়নে বিস্তৃত।
৪. মালদ্বীপ — Maldives National Cadet Corps (MNCC)
মালদ্বীপ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সূচনা ১৯৪৫ সালের একটি প্রশিক্ষণ দল থেকে হলেও বর্তমান রূপে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে MNCC নামে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৫ সালে। এটি মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এবং মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (MNDF) এতে সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেয়। এর মূলমন্ত্র “আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা” (To obey and to be loyal)। দেশের প্রায় ৪১টি স্কুলে সক্রিয় এই সংগঠনটিকে মালদ্বীপের বৃহত্তম যুব সংগঠন হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং এটি চারটি আঞ্চলিক রেজিমেন্টে বিভক্ত।
৫. নেপাল — National Cadet Corps (NCC)
নেপালের ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালের ৭ নভেম্বর, রাজা মহেন্দ্রের অনুমোদনক্রমে। এটি নেপাল আর্মি কর্তৃক পরিচালিত একটি সরকারি যুব নেতৃত্ব ও জাতীয় সেবা কর্মসূচি। প্রোগ্রামটি অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে জুনিয়র ও সিনিয়র ডিভিশনে বিভক্ত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮৬,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং বছরে প্রায় ৭,৭০০ ক্যাডেট অংশ নেয়। সম্প্রতি ১৯৭০ সালের পুরোনো আইন প্রতিস্থাপন করে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের জন্য নতুন একটি বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে, যার আওতায় এটি নেপালের সব ৭৭টি জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৬. ভুটান — আনুষ্ঠানিক ক্যাডেট কোর নেই, তবে জাতীয় সেবা কর্মসূচি চালু
ভুটানে ভারত-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মতো ধারাবাহিক স্কুল-পর্যায়ের “ক্যাডেট কোর” কাঠামো প্রচলিত নেই — এ তথ্য সততার সাথে উল্লেখ করা প্রয়োজন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভুটান “গেলসুং” (Gyalsung) জাতীয় সেবা কর্মসূচি চালু করেছে, যা ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট বয়সে (মূলত ১৮ বছর) তরুণ-তরুণীদের বাধ্যতামূলক মৌলিক সামরিক ও জীবন-দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা রয়্যাল ভুটান আর্মির সহায়তায় পরিচালিত। কাঠামোগতভাবে এটি স্কুল-ক্যাডেট মডেলের চেয়ে ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্যের দিক থেকে তুলনীয়।
৭. আফগানিস্তান — আনুষ্ঠানিক স্কুল ক্যাডেট কোরের অনুপস্থিতি
আফগানিস্তানে ভারত বা বাংলাদেশের ধাঁচে স্কুল/কলেজভিত্তিক কোনো জাতীয় ক্যাডেট কোর নেই। দেশটিতে সামরিক প্রশিক্ষণ মূলত ন্যাশনাল মিলিটারি একাডেমি অব আফগানিস্তানের মতো উচ্চতর সামরিক প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক থেকেছে, যা তরুণ শিক্ষার্থীদের সাধারণ ক্যাডেট কর্মসূচি নয়। এছাড়া ২০২১ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশটির প্রতিরক্ষা ও যুব-প্রশিক্ষণ কাঠামোর সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য সীমিত। তাই এখানে অনুমাননির্ভর কোনো দাবি না করে বলা যায় — সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোর মতো আনুষ্ঠানিক ছাত্র-ক্যাডেট কোরের অস্তিত্ব আফগানিস্তানে দৃশ্যমান নয়।
৮. বাংলাদেশ — Bangladesh National Cadet Corps (BNCC)
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় ১৯৭৯ সালের ২৩ মার্চ, পূর্বসূরি কয়েকটি সংগঠনের সমন্বয়ে। এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেনা, নৌ ও বিমান — এই তিন উইং নিয়ে গঠিত একটি ত্রি-বাহিনীভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী রিজার্ভ বাহিনী। এর মূলমন্ত্র “জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও একতা” (Knowledge, Discipline and Unity)। সদর দপ্তর ঢাকার উত্তরায়; সেনা উইং পাঁচটি রেজিমেন্টে (রমনা, কর্ণফুলী, ময়নামতি, মহাস্থান ও সুন্দরবন) বিভক্ত। এই সিরিজের অষ্টম পর্বে বিএনসিসি নিয়ে বিস্তারিত ও তুলনামূলক আলোচনা করা হবে।
তুলনামূলক সারণি
| দেশ | সংগঠন | প্রতিষ্ঠা | নিয়ন্ত্রণ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| ভারত | National Cadet Corps (NCC) | ১৯৪৮ | প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (তিন বাহিনী) | সক্রিয় — বিশ্বের বৃহত্তম (~১৭–২৩ লক্ষ) |
| পাকিস্তান | National Cadet Corps | ~১৯৫০ | সেনাবাহিনী / ন্যাশনাল গার্ড | ২০০২ সালে বিলুপ্ত; পুনরুজ্জীবনের আলোচনা |
| শ্রীলঙ্কা | National Cadet Corps | মূল ১৮৮১; বর্তমান নাম ১৯৮৮ | প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় | সক্রিয় — অঞ্চলের প্রাচীনতম (~১ লক্ষ) |
| মালদ্বীপ | Maldives National Cadet Corps | ১৯৯৫ (উৎস ১৯৪৫) | শিক্ষা মন্ত্রণালয় + MNDF | সক্রিয় (~৪১টি স্কুল) |
| নেপাল | National Cadet Corps | ১৯৬৫ | নেপাল আর্মি | সক্রিয় — সম্প্রসারণাধীন (বছরে ~৭,৭০০) |
| ভুটান | Gyalsung (জাতীয় সেবা) | ২০২৪ | সরকার / রয়্যাল ভুটান আর্মি | স্কুল-ক্যাডেট কোর নেই; নতুন জাতীয় সেবা |
| আফগানিস্তান | — | — | — | আনুষ্ঠানিক ছাত্র-ক্যাডেট কোর নেই |
| বাংলাদেশ | Bangladesh National Cadet Corps (BNCC) | ১৯৭৯ | প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (তিন বাহিনী) | সক্রিয় — ত্রি-বাহিনীভিত্তিক |
কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
- নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষে ভিন্নতা: ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে ক্যাডেট কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে; নেপালে সরাসরি সেনাবাহিনী পরিচালনা করে; আবার মালদ্বীপে এটি প্রধানত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
- ইতিহাসের বিস্তৃতি: শ্রীলঙ্কা (১৮৮১) ও ভারত (১৯৪৮) সবচেয়ে পুরোনো ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ়; বাংলাদেশ (১৯৭৯) তুলনামূলক নবীন হলেও কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী।
- ধারাবাহিকতা বনাম বিচ্ছিন্নতা: ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল ও মালদ্বীপে ক্যাডেট কোর ধারাবাহিকভাবে সক্রিয়; পাকিস্তানে তা ২০০২ সালে বিলুপ্ত হয়েছে; ভুটান ও আফগানিস্তানে প্রচলিত অর্থে স্কুল-ক্যাডেট কোর নেই।
- অভিন্ন লক্ষ্য: নাম, আকার ও কাঠামো ভিন্ন হলেও প্রায় সবগুলোর মূল উদ্দেশ্য অভিন্ন — তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও সেবার মানসিকতা গড়ে তোলা।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বিএনসিসি
এই তুলনামূলক চিত্রে বাংলাদেশের বিএনসিসির অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ভারতের NCC-র মতো বিএনসিসিও ত্রি-বাহিনীভিত্তিক (সেনা, নৌ, বিমান) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সুসংগঠিত। ভৌগোলিক আকার ও জনসংখ্যার অনুপাতে বিএনসিসি এই অঞ্চলের অন্যতম সংগঠিত ও কার্যকর ক্যাডেট বাহিনী। আগামী পর্বগুলোতে আমরা প্রতিটি দেশের ক্যাডেট কোর আলাদাভাবে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব — ইতিহাস, কাঠামো, প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট ও সুযোগ-সুবিধাসহ — এবং প্রতিবারই বিএনসিসির সাথে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য তুলে ধরব।
পরবর্তী পর্ব (২য়): ভারত — National Cadet Corps (NCC): বিশ্বের বৃহত্তম যুব ক্যাডেট বাহিনীর বিস্তারিত পরিচিতি।
তথ্যসূত্র
- National Cadet Corps (India) — Wikipedia: en.wikipedia.org/wiki/National_Cadet_Corps_(India)
- National Cadet Corps (Pakistan) — Wikipedia: en.wikipedia.org/wiki/National_Cadet_Corps_(Pakistan)
- National Cadet Corps (Sri Lanka) — Wikipedia: en.wikipedia.org/wiki/National_Cadet_Corps_(Sri_Lanka)
- National Cadet Corps (Sri Lanka), সরকারি সাইট: cadet.gov.lk
- Maldives National Cadet Corps — Wikipedia: en.wikipedia.org/wiki/Maldives_National_Cadet_Corps ও nccmaldives.org.mv
- Nepal’s National Cadet Corps (NCC): An explainer — Nepal News: english.nepalnews.com
- Gyalsung National Service, ভুটান: gyalsung.bt
- Bangladesh National Cadet Corps — Wikipedia: en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_National_Cadet_Corps
ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত ও সম্পাদিত: ক্যাপ্টেন মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, বিএনসিসি অফিসার। — https://bncc.work


You must be logged in to post a comment.