জ্ঞান · শৃঙ্খলা · স্বেচ্ছাসেবক  •  Knowledge, Discipline, The Volunteers

Category: Cadet Development

  • ক্যামোফ্লেজ ও কনসিলমেন্ট (Camouflage & Concealment): অদৃশ্য হওয়ার শিল্প

    ক্যামোফ্লেজ ও কনসিলমেন্ট (Camouflage & Concealment): অদৃশ্য হওয়ার শিল্প

    ভূমিকা
    রণক্ষেত্রে জয়ী হওয়ার জন্য কেবল সাহস নয়, বরং কৌশলের প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমান বাহিনীর স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা যখন অপারেশনে যান, তখন তাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো মাঠ পর্যায়ের কৌশল (Field Craft)। একজন বিএনসিসি ক্যাডেট হিসেবে এই কৌশলগুলো জানা আপনার প্রশিক্ষণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।


    ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তা (Camouflage and Concealment)
    মাঠে নিজের উপস্থিতি গোপন রাখা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে মিশে যাওয়াকে সামরিক পরিভাষায় ক্যামোফ্লেজ ও কনসিলমেন্ট (Camouflage and Concealment) বলা হয়।


    ক্যামোফ্লেজ (Camouflage): কৃত্রিম বা প্রাকৃতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিজের শরীর ও ব্যবহৃত অস্ত্রকে এমনভাবে সাজানো যাতে শত্রুর চোখে ধরা না পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ঝোপঝাড়ে অপারেশনের সময় আমাদের জঙ্গল প্রিন্ট ইউনিফর্ম এবং মুখে ব্যবহৃত ক্যামোফ্লেজ ক্রিম (Camouflage Cream) আমাদের পরিবেশের সাথে মিশে যেতে সাহায্য করে।


    কনসিলমেন্ট (Concealment): এটি হলো কোনো আড়াল বা পর্দা (যেমন: বড় গাছ, দেয়াল বা ঝোপ) ব্যবহার করে নিজেকে শত্রুর সরাসরি দৃষ্টি থেকে রক্ষা করা। মনে রাখবেন, কনসিলমেন্ট আপনাকে কেবল শত্রুর দৃষ্টি থেকে বাঁচায়, কিন্তু শত্রুর বুলেট বা ফায়ার (Fire) থেকে সুরক্ষা দেয় না।


    কেন এটি জরুরি?
    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন পার্বত্য চট্টগ্রামে বা প্রতিকূল পরিবেশে অপারেশন পরিচালনা করে, তখন সঠিক ক্যামোফ্লেজ ছাড়া শত্রুর অ্যাম্বুশ (Ambush) বা অতর্কিত হামলার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ক্যাডেট হিসেবে আপনি যখন কোনো ফিল্ড এক্সারসাইজ (Field Exercise) বা ক্যাম্পে অংশ নেন, তখন এই কৌশলগুলো আপনার পেশাদারিত্বের প্রমাণ দেয়।


    মাঠ পর্যায়ে অদৃশ্য থাকার ৫টি মূল সূত্র (5 S’s)
    শত্রুর চোখ ফাঁকি দিতে হলে নিচের ৫টি ‘S’ এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে:
    ১. আকৃতি (Shape): মানুষের শরীরের নির্দিষ্ট আকৃতি বা হেলমেটের গোল ভাব দূর করতে ঘাস বা লতা ব্যবহার করা।
    ২. ছায়া (Shadow): নিজের শরীরের ছায়া যেন শত্রুর চোখে না পড়ে সেভাবে অবস্থান নেওয়া।
    ৩. উজ্জ্বলতা (Shine): ঘড়ি, চশমা বা মেটালিক সরঞ্জামের প্রতিফলন বা রিফ্লেকশন (Reflection) বন্ধ করা।
    ৪. সিলুয়েট (Silhouette): দিগন্তের রেখায় বা আকাশের বিপরীতে নিজের শরীরকে স্পষ্ট হতে না দেওয়া।
    ৫. পৃষ্ঠতল (Surface): মাটির রঙ বা আশেপাশের পরিবেশের সাথে ইউনিফর্মের রঙের সামঞ্জস্য রাখা।

    উপসংহার
    মাঠ পর্যায়ের এই প্রাথমিক জ্ঞানগুলো একজন ক্যাডেটকে কেবল শৃঙ্খলাবদ্ধই করে না, বরং তাকে মানসিকভাবে একজন দক্ষ সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলে। পরবর্তী পোস্টে আমরা আলোচনা করব ব্যাটল ক্রাফট (Battle Craft) বা যুদ্ধ কৌশল নিয়ে।


    আপনার শেষ ক্যাম্পে ক্যামোফ্লেজ করার সময় কোন প্রাকৃতিক উপাদানটি ব্যবহার করেছিলেন? কমেন্টে জানান!

  • BNCC ক্যাডেট পদোন্নতি পরীক্ষা (পর্ব-০১)

    BNCC ক্যাডেট পদোন্নতি পরীক্ষা (পর্ব-০১)

    বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) একটি স্বেচ্ছাসেবী আধা-সামরিক বাহিনী, যা দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। বিএনসিসি-র সাংগঠনিক কাঠামো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং এখানে ক্যাডেটদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। পদোন্নতি পরীক্ষা সাধারণত লিখিত ও ব্যবহারিক উভয় অংশে বিভক্ত থাকে। এই পোস্টটিতে বিগত বছরগুলোর প্রশ্নের আলোকে এবং ২০১৬ সালের পদোন্নতি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলো সংকলন করা হয়েছে।


    বিশেষ ঘোষণা:

    আগামী ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে কর্ণফুলী রেজিমেন্ট ক্যাডেট পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পোস্টটি ক্যাডেটদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।


    পদোন্নতির ধাপসমূহ:

    ক্যাডেটদের পদোন্নতি সাধারণত নিচের ধাপগুলোতে হয়ে থাকে:

    ১. ক্যাডেট হতে ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল

    ২. ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল হতে ক্যাডেট কর্পোরাল

    ৩. ক্যাডেট কর্পোরাল হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট


    📝 বিভাগ ১: সাধারণ জ্ঞান (General Knowledge)


    এই বিভাগে ক্যাডেটদের বিএনসিসি এবং জাতীয় সামরিক বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।

    ১. বিএনসিসি (BNCC) কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?

    উত্তরঃ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    ২. বিএনসিসি (BNCC)-র মূলমন্ত্র কয়টি?

    উত্তরঃ ৩ টি।

    ৩. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর সেনা শাখায় সর্বমোট কতটি ব্যাটালিয়ন আছে?

    উত্তরঃ ২৫ টি।

    ৪. সশস্ত্র বাহিনী দিবস কবে পালিত হয়?

    উত্তরঃ ২১শে নভেম্বর।

    ৫. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?

    উত্তরঃ ১ নং সেক্টরের অধীনে।

    ৬. দূর্যোগ কত প্রকার ও কি কি?

    উত্তরঃ দুর্যোগ ০২ প্রকার। (ক) মানবসৃষ্ট এবং (খ) প্রাকৃতিক।

    ৭. BMA এবং GPA এর পূর্ণরূপ কি?

    উত্তরঃ BMA: Bangladesh Military Academy, এবং GPA: Grade Point Average।

    ৮. বর্তমান মহাপরিচালক এবং কর্ণফুলী রেজিমেন্ট কমান্ডারের নাম কি?

    উত্তরঃ মহাপরিচালক: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদ; (সব সময় বর্তমান DG এর নাম উল্লেখ করবে)

    রেজিমেন্ট কমান্ডার: লেঃ কর্ণেল সাদিক । ( সব সময় বর্তমান RC এর নাম উল্লেখ করবে)

    ৯. ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট এর নাম কি?

    উত্তরঃ মেজর মোঃ রফিকুল হাসান রাফি, পদাতিক।

    ১০. তুমি কত ব্যাটালিয়নের কোন কোম্পানীর ক্যাডেট?

    উত্তরঃ (এখানে ক্যাডেট তার নিজ ব্যাটালিয়ন ও কোম্পানীর নাম উল্লেখ করবে)।


    📝 বিভাগ ২: ফিল্ডক্র্যাফট ও রণকৌশল (Fieldcraft & Tactics)


    এই বিভাগে ক্যাডেটদের সামরিক জ্ঞান এবং কৌশলগত বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।

    ১. সঠিক দূরত্ব নির্ণয়ের পদ্ধতি কয়টি ও কি কি?

    উত্তরঃ সঠিক দূরত্ব নির্ণয়ের পদ্ধতি ৫টি। যথা:

    (ক) একক মাত্রা পদ্ধতি,

    (খ) আকৃতি পদ্ধতি,

    (গ) দৃষ্টি পরিবর্তন পদ্ধতি,

    (ঘ) ফ্রন্ট সাইট টিপ পদ্ধতি, এবং

    (ঙ) শব্দের দ্বারা দূরত্ব নির্ণয় পদ্ধতি।

    ২. জটিল পদ্ধতিতে লক্ষ্যবস্তু দেখানোর পদ্ধতি কয়টি ও কি কি?

    উত্তরঃ ৫টি। যথা:

    (ক) সাহায্যকারী চিহ্ন,

    (খ) ঘড়ির সাহায্য,

    (গ) ডিগ্রীর সাহায্যে (হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে),

    (ঘ) ট্রেসার ফায়ারের সাহায্যে, এবং

    (ঙ) পয়েন্টার স্টাফের সাহায্যে।

    ৩. ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তার (Camouflage and Secrecy) নীতিমালা কয়টি ও কি কি?

    উত্তরঃ ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তার নীতিমালা ০২ টি।

    (ক) আকৃতিকে বিকৃতি করা এবং

    (খ) উজ্জ্বলতাকে ধ্বংস করা।

    ৪. চাল কত প্রকার ও কি কি?

    উত্তরঃ সামরিক ভাষায় চাল ০৪ প্রকার। যথা:

    (ক) গড়ানো চাল,

    (খ) চিতা চাল,

    (গ) হাঁটা চাল, এবং

    (ঘ) বানর চাল।

    ৫. দিক নির্ণয়ের উপাদানগুলো কি কি?

    উত্তরঃ দিক নির্ণয় করার প্রধান ৫টি উপায় হলো:

    (ক) সূর্যের সাহায্যে,

    (খ) মসজিদের সাহায্যে,

    (গ) মুসলমানদের কবরের সাহায্যে,

    (ঘ) কম্পাসের সাহায্যে, এবং

    (ঙ) ধ্রুব তারার সাহায্যে।

    ৬. হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে ডিগ্রী নির্ণয়:

    • তর্জনী আঙ্গুল হতে কনিষ্ঠ আঙ্গুল পর্যন্ত: ৮ ডিগ্রী
    • তর্জনী আঙ্গুল হতে মধ্যমা আঙ্গুল পর্যন্ত: ৩ ডিগ্রী
    • মধ্যমা আঙ্গুল হতে কনিষ্ঠ আঙ্গুল পর্যন্ত: ৫ ডিগ্রী

    ৭. টহল কাকে বলে, টহল কত প্রকার ও কি কি? কয়টি পর্বে সমাধান করা যায়?

    উত্তরঃ 

    টহল (Patrol): শত্রুর এলাকায় চুপি চুপি প্রবেশ করে গোপনভাবে কিংবা সরাসরি সংঘর্ষের মাধ্যমে শত্রুর সংবাদ সংগ্রহ করা অথবা নিজ বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অধিনায়ককে সঠিকভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরীতে সাহায্য করাকে টহল বা Patrol বলে।

    টহলের প্রকারভেদ: টহল প্রধানত ২ প্রকার। যথা:

    ১. জঙ্গী টহল (Fighting Patrol)

    ২. পর্যবেক্ষণ টহল (Reconnaissance Patrol/Recce Patrol)

    টহলের পর্ব (Phases of Patrol): একটি টহল মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য মূলত ৩টি পর্বে কাজ করা হয়:

    ১. প্রস্তুতি পর্ব (Preparation Phase)

    ২. কার্যকর বা টহল পরিচালনা পর্ব (Conduct Phase)

    ৩. প্রতিবেদন বা ডিব্রিফিং পর্ব (Reporting/Debriefing Phase)

    ৮. হানা (Raid) কাকে বলে? হানার পর্ব কয়টি এবং দল কয়টি ও কি কি?

    উত্তরঃ শত্রু বাহিনীর শক্তি বা মনোবল খর্ব করার লক্ষ্যে, নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে হঠাৎ কোনো স্থানে আক্রমণ করা এবং কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই পরিকল্পিতভাবে সেই স্থান ত্যাগ করাকেই হানা বা Raid বলা হয়। এটি মূলত একটি সাময়িক আক্রমণ, যেখানে এলাকা দখল করে রাখা মূল উদ্দেশ্য থাকে না।

    হানার পর্ব:  একটি সফল হানা সম্পন্ন করতে মূলত ৩টি পর্ব বা পর্যায় অতিক্রম করতে হয়:

    ১. যাত্রা বা অগ্রসর হওয়া (Approach)

    ২. আক্রমণ বা হানা প্রদান (Action at the Objective)

    ৩. প্রত্যাবর্তন বা পিছু হটা (Withdrawal)

    হানার দল: হানার দল ০৫টি। যথা:

    ১. বিচ্ছিন্নকারী দল (Isolation Party/Cut-off Party)

    ২. আবরনী দল (Covering Party)

    ৩. বাঁধা প্রদানকারী দল (Check/Stop Party)

    ৪. কার্যকরী দল (Assault Party)

    ৫. সংরক্ষিত দল (Reserve Party)

    বিশেষ দ্রষ্টব্য: হানার সময় উপ-অধিনায়ক (Second-in-Command) সাধারণত কাভারিং পার্টি বা আবরনী দলের সাথে অবস্থান করেন।

    ৯. ফাঁদ (Ambush) কাকে বলে? এর প্রকারভেদ এবং দল কয়টি ও কি কি?

    উত্তরঃ 

    ফাঁদ বা অ্যাম্বুশ (Ambush): শত্রু বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেওয়ার জন্য কোনো গোপন স্থানে ওত পেতে থেকে হঠাৎ আক্রমণ করাকে ফাঁদ বা Ambush বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শত্রুকে ধ্বংস করা, বন্দী করা অথবা তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। অ্যাম্বুশে এলাকা দখল করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না, বরং অতর্কিত হামলা চালিয়ে শত্রুর ক্ষতি করাই প্রধান লক্ষ্য।

    অ্যাম্বুশ বা ফাঁদের প্রকারভেদ:

    অ্যাম্বুশ প্রধানত ০২ প্রকার। যথা:

    ১. তাৎক্ষণিক বা আকস্মিক ফাঁদ (Immediate/Chance Ambush)

    ২. পরিকল্পিত ফাঁদ (Deliberate Ambush)

    অ্যাম্বুশ বা ফাঁদের দল (Ambush Parties): 

    একটি সফল অ্যাম্বুশ পরিচালনার জন্য মূল বাহিনীকে সাধারণত ০৪টি দলে ভাগ করা হয়:

    ১. বিচ্ছিন্নকারী দল (Isolation Party)

    ২. আবরনী দল (Covering Party)

    ৩. কার্যকরী দল (Assault Party)

    ৪. সংরক্ষিত দল (Reserve Party)

    ১০. রাত্রিকালীন মার্চের সংগঠন লিখ।

    উত্তরঃ রাত্রিকালীন মার্চের সংগঠন ০৩ জন।

    (ক) পথ প্রদর্শক,

    (খ) সহকারী পথ প্রদর্শক, এবং

    (গ) গনণাকারী।

    ১১. চূড়ান্ত মিলনস্থান (FRV)-এ মূল দল কত দূরে অবস্থান করবে?

    উত্তরঃ চূড়ান্ত মিলনস্থানে পৌঁছার পূর্বে মূল দল ৩০০ মিটার দূরে অবস্থান করবে।

    ১২. ফায়ার নিয়ন্ত্রন আদেশ কয় প্রকার ও কি কি?

    উত্তরঃ ফায়ার নিয়ন্ত্রন আদেশ ৪ প্রকার। যথা:

    (ক) ব্যক্তিগত ফায়ার নিয়ন্ত্রন আদেশ,

    (খ) অপেক্ষামান ফায়ার নিয়ন্ত্রন আদেশ,

    (গ) সংক্ষিপ্ত ফায়ার নিয়ন্ত্রন আদেশ, এবং

    (ঘ) সম্পূর্ণ ফায়ার নিয়ন্ত্রন আদেশ।

    ১৩. মানচিত্রে পাকা রাস্তা বুঝানোর জন্য কোন ধরনের রং ব্যবহার করা হয়?

    উত্তরঃ লাল রং।

    ১৪. একটি মরিচায় (Trench) কয়টি রেঞ্জ কার্ড প্রস্তুত করতে হয়?

    উত্তরঃ ২টি।


    📝 বিভাগ ৩: অস্ত্র পরিচিতি (Weapon Knowledge)


    এই বিভাগে ক্যাডেটদের সামরিক অস্ত্র এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো যাচাই করা হয়।

    ১. ৭.৬২ মিঃ মিঃ রাইফেল টাইপ- ৫৬ (চায়না) এর বৈশিষ্ট্য কয়টি ও কি কি?

    উত্তরঃ এই রাইফেলের প্রধান ৬টি বৈশিষ্ট্য হলো:

    (ক) আধা স্বয়ংক্রিয়,

    (খ) গ্যাসের সাহায্যে পরিচালিত,

    (গ) বাতাসের দ্বারা ঠান্ডা হয়,

    (ঘ) ম্যাগাজিন হতে গলি ফিড করা হয়,

    (ঙ) বেয়নেট লাগানো যায়,

    (চ) অন্যান্য রাইফেল হতে হালকা এবং কার্যকরী ফায়ার করা যায়।

    ২. ৭.৬২ মিঃ মিঃ রাইফেল টাইপ- ৫৬ (চায়না) সাধারণভাবে কতটি অংশে খোলা হয়?

    উত্তরঃ ৮ অংশে।


    📝 বিভাগ ৪: প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid)


    এই বিভাগে ক্যাডেটদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।

    ১. হিটস্ট্রোক এর লক্ষণ গুলো কি কি?

    উত্তরঃ হিটস্ট্রোকের লক্ষণসমূহ হলো:

    (ক) শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া,

    (খ) ঘাম কমে যাওয়া বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া,

    (গ) ত্বক লাল ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া,

    (ঘ) শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা,

    (ঙ) শরীরে ক্লান্তিভাব, মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব, এবং

    (চ) পালস দ্রুত হওয়া এবং হার্টবিট বেড়ে যাওয়া।

    ২. হৃদরোগের লক্ষণ সমূহ কি কি?

    উত্তরঃ হৃদরোগের লক্ষণসমূহ হলো:

    (ক) বুকে ব্যাথা বা অস্বস্তি,

    (খ) শ্বাসকষ্ট,

    (গ) অতিরিক্ত ঘাম,

    (ঘ) বাহু, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ব্যাথা, এবং

    (ঙ) মাথা ঘোরানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।


    🎯 নিজেকে যাচাই করুন: অনুশীলন বিভাগ


    ১. “বিএনসিসি প্রশিক্ষণ ক্যাডেটদের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করে”— সপক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দাও।

    ২. সামরিক কৌশলগত জ্ঞানে ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তার গুরুত্ব আলোচনা করুন।

    ৩. আপনার ইউনিটের ক্যাডেটদের মধ্যে সঠিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে আপনি কী কী পদক্ষেপ নেবেন?

    ৪. ‘হিটস্ট্রোক’ এবং ‘হৃদরোগ’—এর মধ্যে পার্থক্য কী? লক্ষণগুলোর তুলনা করুন।


    ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত ও সম্পাদিত: 
    ক্যাপ্টেন মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, বিএনসিসি অফিসার। 
    Link: https://bncc.work 
    (এটি bncc.work এর একটি বিশেষ আর্কাইভাল পোস্ট। অনুমতি ব্যতীত এর কোনো অংশ পুন:প্রকাশ নিষিদ্ধ।)
  • Career in Armed Forces: বিএনসিসি ক্যাডেটদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন

    Career in Armed Forces: বিএনসিসি ক্যাডেটদের জন্য বিশেষ গাইডলাইন

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদানের স্বপ্ন দেখছেন? একজন বিএনসিসি ক্যাডেট হিসেবে আপনার বিশেষ সুবিধা, আবেদনের যোগ্যতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার গাইড।


    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদান করা অনেক ক্যাডেটদের স্বপ্ন। বিএনসিসি-এর একজন সক্রিয় ক্যাডেট হিসেবে আপনি এই লক্ষ্য অর্জনে অন্যদের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে আছেন।

    ১. বিএনসিসি ক্যাডেটদের জন্য বিশেষ সুবিধাসমূহ

    বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে বিএনসিসি ক্যাডেটরা নিচের সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন:

    • লিখিত পরীক্ষায় অব্যাহতি (Exemption): যোগ্য এবং ‘বি’ ও ‘সি’ সার্টিফিকেটধারী ক্যাডেটদের অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি প্রাথমিক ভাইভা ও আইএসএসবি (ISSB) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
    • কোটা সুবিধা: ক্যাডেটদের জন্য নির্ধারিত কোটা বা অগ্রাধিকার থাকে।
    • প্রশিক্ষণগত সুবিধা: ক্যাডেটরা আগে থেকেই ড্রিল, ম্যাপ রিডিং ও সামরিক শিষ্টাচার জানায়, তারা বিএমএ (BMA) বা একাডেমিতে অন্যদের চেয়ে ভালো পারফর্ম করে।

    ২. আবেদনের যোগ্যতা (Eligibility)

    • বয়স: সাধারণত সাড়ে ১৬ থেকে ২১ বছর (অফিসার ক্যাডেট পদের জন্য)।
    • শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ (ন্যূনতম ৪.৫০)।
    • শারীরিক যোগ্যতা:
    • পুরুষ: উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৫০ কেজি (উচ্চতা অনুযায়ী)।
    • মহিলা: উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, ওজন ৪৭ কেজি।

    ৩. নিয়োগ প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে নির্দেশিকা

    একজন ক্যাডেটকে অফিসার হতে হলে নিচের ধাপগুলো পার হতে হয়:

    1. Online Application: সেনা, নৌ বা বিমানবাহিনীর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আবেদন।
    2. Primary Medical & Viva: প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা।
    3. Written Exam: (যদি প্রযোজ্য হয়) সাধারণ ক্যাডেটদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক, তবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিএনসিসি ক্যাডেটদের জন্য অনেক সময় শিথিলযোগ্য।
    4. ISSB (Inter Services Selection Board): এটি ৪ দিনের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও নেতৃত্ব যাচাই পরীক্ষা।
    5. Final Medical: চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
    6. Training: ক্যাডেট হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (BMA), নেভাল একাডেমি (BNA) বা এয়ার ফোর্স একাডেমিতে (BAFA) যোগদান।

    ৪. আইএসএসবি (ISSB) প্রস্তুতিতে বিএনসিসি-এর ভূমিকা

    আইএসএসবি-তে একজন প্রার্থীর নেতৃত্ব (Leadership), দলগত কাজ (Teamwork) এবং উপস্থিত বুদ্ধি দেখা হয়। বিএনসিসি ক্যাম্পে একজন ক্যাডেট এই গুণগুলো প্রাকৃতিকভাবেই অর্জন করে:

    • Command & Control: ক্যাম্পের জুনিয়র ক্যাডেটদের কমান্ড দেওয়া।
    • Extempore Speech: বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস।
    • Physical Fitness: নিয়মিত ড্রিল ও পিটি-র মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা।
    • PPDT & Task: বিএনসিসি-তে ম্যাপ রিডিং এবং ফিল্ড ক্রাফট শেখার ফলে আইএসএসবি-র গ্রুপ টাস্ক সহজ হয়ে যায়।

    ৫. প্রয়োজনীয় টিপস

    • সার্টিফিকেট সংরক্ষণ: আপনার বি (B) এবং সি (C) সার্টিফিকেটগুলো যত্নসহকারে রাখুন। আবেদনের সময় এগুলোর কপি প্রয়োজন হবে।
    • সক্রিয় অংশগ্রহণ: শুধুমাত্র ভর্তির জন্য নয়, বরং শিখার জন্য ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করুন।
    • সাধারণ জ্ঞান: দেশ ও বিদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে নিয়মিত পড়াশোনা করুন।

    ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত ও সম্পাদিত: 
    ক্যাপ্টেন মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, বিএনসিসি অফিসার। 
    Link: https://bncc.work 
    (এটি bncc.work এর একটি বিশেষ আর্কাইভাল পোস্ট। অনুমতি ব্যতীত এর কোনো অংশ পুন:প্রকাশ নিষিদ্ধ।)
  • ISSB Preparation Checklist: একজন ক্যাডেট হিসেবে আপনার প্রস্তুতি

    ISSB Preparation Checklist: একজন ক্যাডেট হিসেবে আপনার প্রস্তুতি

    আইএসএসবি (ISSB) পরীক্ষা মূলত ৪ দিনের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও নেতৃত্ব যাচাই প্রক্রিয়া। একজন বিএনসিসি ক্যাডেট হিসেবে আপনার নিচের বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত:

    ১. শারীরিক সক্ষমতা (Physical Fitness)

    আইএসএসবি-র বাধা অতিক্রম (Obstacles) এবং পিটি-র জন্য নিজেকে তৈরি রাখুন:

    • Running: প্রতিদিন অন্তত ১-২ কিলোমিটার দৌড়ানোর অভ্যাস।
    • Push-ups & Sit-ups: প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০টি করে করার সক্ষমতা।
    • Chin-ups: অন্তত ৩-৫টি সঠিকভাবে করার অভ্যাস।
    • Ditch Crossing: মানসিক সাহসের সাথে লম্বা লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি।

    ২. বুদ্ধিমত্তা ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা (IQ & Psychological Test)

    • IQ Practice: ভার্বাল (Verbal) ও নন-ভার্বাল (Non-verbal) আইকিউ নিয়মিত অনুশীলন।
    • PPDT (Picture Perception & Description Test): ঝাপসা ছবি দেখে ৩০ সেকেন্ডে গল্প তৈরি এবং তা নিয়ে গ্রুপ ডিসকাশন।
    • WAT (Word Association Test): শব্দ দেখে দ্রুত বাক্য তৈরির অনুশীলন।
    • TAT (Thematic Apperception Test): ছবি দেখে ইতিবাচক গল্প লেখার ক্ষমতা।

    ৩. নেতৃত্ব ও দলগত কাজ (Group Tasks)

    বিএনসিসি ক্যাডেট হিসেবে আপনার এখানে সেরা হওয়ার সুযোগ রয়েছে:

    • PGT & HGT: প্রগ্রেসিভ গ্রুপ টাস্ক এবং হাফ গ্রুপ টাস্ক-এ কমান্ড দেওয়ার ক্ষমতা।
    • Command Task: লিডার হিসেবে দলকে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর কৌশল।
    • Extempore Speech: ৩ মিনিট যেকোনো বিষয়ের ওপর সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা।

    ৪. মৌখিক পরীক্ষা (Interview Preparation)

    • Self-Knowledge: নিজের সম্পর্কে, পরিবারের সম্পর্কে এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা।
    • General Knowledge: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর র্যাঙ্ক স্ট্রাকচার, বর্তমান প্রধানদের নাম এবং সাম্প্রতিক বিশ্ব ঘটনা।
    • BNCC Experience: ক্যাডেট হিসেবে আপনার অর্জন, ক্যাম্প অভিজ্ঞতা এবং কী কী শিখেছেন তার সঠিক বর্ণনা।

    ৫. প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Checklist)

    • BNCC Certificates: বি (B) এবং সি (C) সার্টিফিকেটের মূল কপি ও সত্যায়িত ফটোকপি।
    • Academic Certificates: এসএসসি ও এইচএসসি-র মার্কশিট ও সার্টিফিকেট।
    • Recommendation Letter: সংশ্লিষ্ট পিইউও (PUO) বা কমান্ডিং অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত  চারিত্রিক সনদ।
  • BNCC Promotion Exam Quiz-02

    BNCC Promotion Exam Quiz-02


    ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত ও সম্পাদিত:
    ক্যাপ্টেন মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, বিএনসিসি অফিসার।
    Link: https://bncc.work
    (এটি bncc.work এর একটি বিশেষ আর্কাইভাল পোস্ট। অনুমতি ব্যতীত এর কোনো অংশ পুন:প্রকাশ নিষিদ্ধ।)

  • বিএনসিসি ক্যাডেট পদোন্নতি চূড়ান্ত পরীক্ষা (লিখিত) প্রস্তুতি গাইড

    বিএনসিসি ক্যাডেট পদোন্নতি চূড়ান্ত পরীক্ষা (লিখিত) প্রস্তুতি গাইড

    বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর একজন গর্বিত ক্যাডেট হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া প্রতিটি সদস্যের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন পূরণে অন্যতম বাধা হলো লিখিত পরীক্ষা। ক্যাডেটদের প্রস্তুতি সহজতর করতে বিএনসিসি রিসোর্স হাব নিয়ে এলো বিগত বছরের প্রশ্ন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ কুইজ ও প্রশ্নব্যাংক।


    📝 পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও মান বণ্টন

    • বিষয়: ড্রিল, অস্ত্র প্রশিক্ষণ, ম্যাপ রিডিং, ফিল্ড ক্রাফট এবং সাধারণ জ্ঞান।
    • পূর্ণমান: ৬০ নম্বর।
    • সময়: ৬০ মিনিট।

    📖 গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

    নিচে ২৫টি বাছাইকৃত প্রশ্ন দেওয়া হলো যা আপনার পদোন্নতি পরীক্ষায় কমন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি:

    সেকশন ১: বিএনসিসি ও সাধারণ জ্ঞান

    ১. বিএনসিসি’র মূলমন্ত্র কয়টি?

    উঃ ৫টি।

    ২. বিএনসিসি কত তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    উঃ ২৩ মার্চ, ১৯৭৯।

    ৩. একটি প্লাটুনে কতজন জনবল থাকে?

    উঃ ৩২ জন।

    ৪. বিএনসিসি সেনা শাখায় সর্বমোট কতটি ব্যাটালিয়ন আছে?

    উঃ ২৫টি।

    ৫. বিএনসিসি’র সেনা শাখার রেজিমেন্ট কয়টি?

    উঃ ৫টি ।


    সেকশন ২: সামরিক কলাকৌশল (Tactics & Drill)

    ৬. টহল (Patrol) কত পর্বে সমাধা করা যায়?

    উঃ ৩টি।

    ৭. ফাঁদ (Ambush) কত প্রকার?

    উঃ ৪ প্রকার।

    ৮. জংগী টহল বা হানা দেওয়ার কাজ কার?

    উঃ জংগী টহল (Fighting Patrol)।

    ৯. ছদ্মবেশ ও গোপনীয়তার নীতিমালা কয়টি?

    উঃ ৩টি।


    সেকশন ৩: অস্ত্র প্রশিক্ষণ (Weapon Training)

    ১০. ৭.৬২ মিমি রাইফেল টাইপ-৫৬ (চায়না) সাধারণভাবে কতটি অংশে খোলা হয়?

    উঃ ৮টি অংশে।

    ১১. পয়েন্ট ২২ (.২২) ডিলাক্স রাইফেলের ম্যাগাজিন ক্ষমতা কত?

    উঃ ১ রাউন্ড (সিঙ্গেল শট)।


    সেকশন ৪: ম্যাপ রিডিং (Map Reading)

    ১২. মানচিত্রে ‘লাল’ বা ‘বেগুনী’ রঙের সমান্তরাল রেখাগুলোকে কী বলে?

    উঃ গ্রিড লাইন (Grid Line)।

    ১৩. মানচিত্রে পাকা রাস্তা বোঝাতে কোন রং ব্যবহার করা হয়?

    উঃ লাল রং।

    ১৪. মানচিত্র সবসময় কোন দিক মুখ করে স্থাপন করতে হয়?

    উঃ উত্তর দিক (True North)।

    ১৫. মানচিত্রে নদী, নালা বা জলাশয় কোন রঙে দেখানো হয়?

    উঃ নীল রঙে।


    সেকশন ৫: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

    ১৬. জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?

    উঃ সৈয়দ মইনুল হোসেন।

    ১৭. বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস কত তারিখে?

    উঃ ২১শে নভেম্বর।

    ১৮. বাংলাদেশের সর্বশেষ (৮ম) বিভাগ কোনটি?

    উঃ ময়মনসিংহ।

    ১৯. জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম কী?

    উঃ আন্তোনিও গুতেরেস।


    💡 ক্যাডেটদের জন্য শেষ মুহূর্তের টিপস:

    ১. ড্রিল: প্যারেড গ্রাউন্ডে কমান্ড শোনার সাথে সাথে দ্রুত রেসপন্স করার অভ্যাস করুন।

    ২. মানচিত্র: কনভেনশনাল সাইন (Conventional Signs) গুলো ভালো করে আঁকা শিখুন।

    ৩. অস্ত্র: রাইফেলের বিভিন্ন অংশের নাম এবং এর কারিগরি তথ্যগুলো মুখস্থ রাখুন।

    আপনার পদোন্নতি পরীক্ষার জন্য বিএনসিসি রিসোর্স হাব-এর পক্ষ থেকে রইলো অনেক অনেক শুভকামনা!


    ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত ও সম্পাদিত: 
    ক্যাপ্টেন মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, বিএনসিসি অফিসার। 
    Link: https://bncc.work 
    (এটি bncc.work এর একটি বিশেষ আর্কাইভাল পোস্ট। অনুমতি ব্যতীত এর কোনো অংশ পুন:প্রকাশ নিষিদ্ধ।)
  • BNCC Promotion Exam Quiz – 01

    BNCC Promotion Exam Quiz – 01


    ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংগৃহীত ও সম্পাদিত: 
    ক্যাপ্টেন মুহম্মদ জিয়াউর রহমান, বিএনসিসি অফিসার। 
    Link: https://bncc.work 
    (এটি bncc.work এর একটি বিশেষ আর্কাইভাল পোস্ট। অনুমতি ব্যতীত এর কোনো অংশ পুন:প্রকাশ নিষিদ্ধ।)
  • পদোন্নতি পরীক্ষা পরিচালনা

    পদোন্নতি পরীক্ষা পরিচালনা

    ক্রমিক পদোন্নতি পরীক্ষা পরীক্ষা পরিচালনা পর্যদের গঠন মন্তব্য
    ১। ক্যাডেট হতে ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল ক। সভাপতি: নিজস্ব প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার। খ। সদস্যঃ (১) পার্শ্ববর্তী প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (২) নিজস্ব প্লাটুনের দায়িত্ব প্রাপ্ত সামরিক প্রশিক্ষক প্রশ্ন তৈরী করবেন ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট/কোম্পানী কমান্ডার
    ২। ক্যাডেট ল্যান্স কপোরাল হতে ক্যাডেট কর্পোরাল ক। সভাপতি: কোম্পানী সেকেন্ড ইন কমান্ড খ। সদস্যঃ (১) নিজস্ব প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (২) পার্শ্ববর্তী প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (৩) নিজস্ব প্লাটুনের দায়িত্ব প্রাপ্ত সামরিক প্রশিক্ষক প্রশ্ন তৈরী করবেন ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট/কোম্পানী কমান্ডার
    ৩। ক্যাডেট কর্পোরাল হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট ক। সভাপতি: কোম্পানী সেকেন্ড ইন কমান্ড খ। সদস্যঃ (১) কোম্পানী সেকেন্ড ইন কমান্ড (২) প্লাটুন কমান্ডার (৩) পার্শ্ববর্তী প্লাটুনের প্লাটুন কমান্ডার (৪) ২ সামরিক প্রশিক্ষক প্রশ্ন তৈরী করবেন ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট
    ৪। ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও ক। সভাপতি: ব্যাটালিয়ন কমান্ড খ। সদস্যঃ (১) ব্যাটালিয়ন  সেকেন্ড ইন কমান্ড (২) কোম্পানি কমান্ডারগণ (৩) ব্যাটালিয়ন হেড় কোয়ার্টারের পিইউগণ (৪)৩২ সামরিক প্রশিক্ষক রেজিমেন্ট সদর দপ্তর হতে প্রশ্নপত্র তৈরী করা হবে
  • পদোন্নতি পরীক্ষার সময়সূচী

    ক্রমিক

    পর্যায়

    ক্যাডেট হতে ক্যাডেট ল্যান্স কপোরাল

    ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল হতে ক্যাডেট কর্পোরাল

    ক্যাডেট কর্পোরাল হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট

    ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও

    মন্তব্য

    ১।

    বিশ্ববিদ্যালয়

    এপ্রিল

    জুলাই

    জানুয়ারি

    এপ্রিল/

    অক্টোবর

    বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আলাদা কোম্পানী থাকলে এপ্রিল মাসে ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও পদোন্নতি পরীক্ষা হবে অথবা কলেজ পর্যায়ের সাথে অক্টোবর মাসে এ পরীক্ষা হতে পারে।

    ২।

    কলেজ

    অক্টোবর

    জানুয়ারি

    জুলাই

    অক্টোবর

     

    ৩।

    স্কুল

    মে

    আগষ্ট

    ফেব্রুয়ারি

    মে

     
  • ক্যাডেট পদোন্নতি, সিনিয়র ডিভিশন

    ক। ক্যাডেট হতে ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নূন্যতম ছয়মাস প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) গ্রেড ২ পদোন্নতি পরীক্ষায় কৃতকার্য।

    (গ) জুনিয়র ডিভিশনের ক্যাডেটদেরকে সরাসরি সিনিয়র ডিভিশনে বিবেচনা করা যেতে পারে।

    (ঘ) একটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    খ। ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরাল হতে ক্যাডেট কর্পোরাল

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নূন্যতম এক বছর প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) ক্যাডেট ল্যান্স কর্পোরালের মধ্য হতে ক্যাডেট কর্পোরাল হবে।

    (গ) একটি ক্যাপসুল/বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবির শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ/স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহণ।

    (ঘ) একটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন। 

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    গ। ক্যাডেট কর্পোরাল হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট

    (১) যোগ্যতা

    (ক) ক্যাডেট কর্পোরালের মধ্য হতে ক্যাডেট সার্জেন্ট হবে।

    (খ) নূন্যতম এক বছর প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (গ) গ্রেড- ১ পদোন্নতি পরীক্ষায় কৃতকার্য।

    (ঘ) একটি ক্যাপসুল/বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবির/শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ/স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহণ।

    (ঙ) দুইটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) ব্যাটালিয়ন কমান্ডার/ওসি ফ্লোটিলা/ওসি স্কোয়াড্রন চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    ঘ। ক্যাডেট সার্জেন্ট হতে সিইউও

    (১) যোগ্যতা

    (ক) নূন্যতম দুই বছর প্লাটুন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ।

    (খ) ক্যাডেট সার্জেন্টের মধ্য হতে সিইউও হবে।

    (গ) রেজিমেন্ট কমান্ডার কর্তৃক পরীক্ষা গ্রহণ।

    (ঘ) একটি বার্ষিক প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ গ্রহণ।

    (ঙ) একটি শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ/স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেডে অংশ গ্রহণ।

    (চ) তিনটি সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ।

    (২) পদোন্নতি কর্তৃপক্ষ

    (ক) ব্যাটালিয়ন এ্যাডজুটেন্ট ও প্লাটুন কমান্ডার উপযুক্ত প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবেন।

    (খ) রেজিমেন্ট কমান্ডার ওসি শাখা চূড়ান্ত অনুমোদন করবেন।

    ঙ। বিবিধ

    (১) জুনিয়র ডিভিশনের যে কোন পদবী সিনিয়র ডিভিশন হতে কণিষ্ঠ হবে।

    (২) জুনিয়ন ডিভিশন প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে যদি কোন ক্যাডেট সিনিয়র ডিভিশনে যোগদান করে তাহলে তাকে সাধার ক্যাডেট হিসাবেই পরিগনিত করা হবে। কোন জেষ্ঠ্যেতা প্রদান করা হবে না।

    (৩) নতুন প্লাটুন প্রতিষ্ঠার পর ব্যাটালিয়ন/ফ্লোটিলা/স্কোয়াড্রন এবং রেজিমেন্ট কমান্ডার কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত র‍্যাংক প্রদান করতে পারেন।